নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ৬৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরমধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৭৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং উপজেলায় ৬১ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
চট্টগ্রাম নগরে ৭৬ ও জেলায় ৬১ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আসন্ন নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে বড় অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৬৬ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। নগর এলাকায় তিনটি আসনের মোট ৬০৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৬১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। নগরের প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৩১২টি। অন্যদিকে, জেলার ১৩টি আসনের এলাকায় মোট ১ হাজার ৩৫৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৮৩০টি কেন্দ্র। অর্থাৎ জেলায় প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৪৪টি।
ঝুঁকির্পূণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কত সদস্য থাকছে
গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো পরিপত্রে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ তিনজন পুলিশ, অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডার, একজন আনসার ভিডিপি সদস্য থাকবেন। প্রতি ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, একজন অস্ত্রসহ সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষসহ ১০ জন আনসার ভিডিপি সদস্যসহ মোট ১৬ জন দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে দুজন গ্রাম পুলিশ দায়িত্বে থাকবেন। সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় অস্ত্রধারী একজন আনসার সদস্য, অস্ত্রধারী একজন সহকারী সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষসহ ১০ জন আনসার ভিডিপি সদস্য ও দুজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে প্রতিটি কেন্দ্রে।
জেলা ও সিএমপি পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। যেটি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বার্তা পাঠানো যাবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনের ১০৬টি, কক্সবাজারের ৪০টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টি, বান্দরবানে ৩৩টি ও রাঙামাটিতে ১৪টি ভোটকেন্দ্রে নানা সংকট রয়েছে। যেগুলোর সামনের সড়ক সংকীর্ণ, রাস্তা ভাঙা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। সরেজমিন নগরের আরাকান হাউজিং সোসাইটির মডার্ন আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, তিনতলা তলা ভবনটির নিচতলায় একটি বেসরকারি স্কুল। ছোট ছোট কক্ষে শ্রেণী কার্যক্রম চালানো হয়। নির্বাচন কমিশন এটিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের পুরুষ কেন্দ্র হিসেবে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর শুলকবহরের বাসিন্দাদের জন্য কেন্দ্রটি হলেও এখানে যানবাহন নিয়ে সরাসরি প্রবেশের কোন পথ নেই। দুইটি বিকল্প পথ থাকলেও সেগুলো সরু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের লোকজনকে পৌঁছাতে হলে একটি পথে ১৫০ মিটার দূরে ও অন্যপথে প্রায় ২০০ মিটার হেঁটে যেতে হবে। এরমধ্যে একটি পথে একটি মাত্র গাড়ি প্রবেশের সুযোগ থাকলেও গাড়ি ঘোরানোর কোন জায়গা নেই।
একই ওয়ার্ডের পাঁচলাইশ সড়ক থেকে একটি গলি ধরে আড়াইশ মিটার গেলেই আহম্মদ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটিও শুলকবহর ওয়ার্ডের আরেকটি পুরুষ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে যাওয়ার মাত্র একটি পথ। সেটিও খুব সংকীর্ণ। হালকা ও মাঝারি যানবাহন ঢুকলেও বের হওয়ার কোন পথ নেই। জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘১৭ বছর ধরে এই এলাকায় আছি। ভোটকেন্দ্রে তেমন ঝামেলা হতে দেখিনি। অবশ্য, এই সময় তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনও তো হয়নি। এখানে কেউ ঝামেলা করলেও প্রশাসন আসার আগেই সটকে পড়তে পারবে। কারণ বড় গাড়ি প্রবেশের জায়গা নেই।’
শুধু এই দুইটি নয়, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের শান্তিনগরের উদয়ন স্কুল মহিলা ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের ২০০ মিটার রাস্তা ভাঙ্গা। এরমধ্যে ১০০ মিটার ইটের পাহাড়ি উঁচু সড়ক। নগরের বন্দর থানার আজিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ হালিশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুইটির দরজা ও জানলা ভাঙ্গা এবং প্রবেশের রাস্তাও সংকীর্ণ। এখানে দুইটি করে চারটি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো মেরামতের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইসি। এছাড়া, সীতাকুণ্ডের তুলাতলী ছাবিদ নাছির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের ১৫০ মিটার রাস্তা খুবই সরু। মাত্র ৩ ফুট প্রশস্থ একটি রাস্তা রয়েছে। রাউজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের গুজরা উমা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের রাস্তাটি ভাঙ্গা। নির্বাচনী গাড়ি ও মালামাল পরিবহনে সমস্যা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসি।
ইসি সচিবালয় থেকে গত ৪ নভেম্বর পাঠানো ‘অতীব জরুরি’ চিঠিতে জানানো হয়, গত ২০ অক্টোবর কেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করার পর দেখা গেছে-অনেক ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা ভাঙা, সংকীর্ণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পাঠানো হয়েছে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী সংস্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।
