আন্তর্জাতিক ডেক্স:
ইরান যুদ্ধের কারণে আগামী মার্চের শেষদিকে উচ্চপর্যায়ের চীন সফরটি প্রায় এক মাস পিছিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (১৬ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি এক মাস বা তার কাছাকাছি সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধ তদারকি করার জন্য তার দেশে থাকা জরুরি।
গত বছরের অক্টোবরে শেষবার মুখোমুখি হওয়ার পর, ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এই বৈঠকটি বর্তমানে ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে হওয়ার কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীন দূতাবাস বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা বৈঠক সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো দেখেছে, তবে এ বিষয়ে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
তীব্রতর হতে থাকা সংঘাত এবং বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বিঘ্ন—যা যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির হুমকি তৈরি করেছে—ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের অন্যান্য প্রায় সব বৈদেশিক নীতিকে ম্লান করে দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল যুদ্ধের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্যই এই বিলম্বের প্রস্তাব করেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো।’ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘এর পেছনে অন্য কোনো চাল নেই। বিষয়টি খুব সহজ। আমাদের একটি যুদ্ধ চলছে। আমি মনে করি এখানে আমার থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার বলেছেন, এই বৈঠকের বিলম্বের কারণ বেইজিংয়ের কাছে পারস্য উপসাগরে সাহায্যের অনুরোধ বা কোনো বাণিজ্য বিরোধ নয়। বেসেন্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ–প্রচেষ্টাকে সমন্বয় করার জন্য ডিসিতে (ওয়াশিংটন) থাকতে চান… এমন সময়ে বিদেশ সফর করাটা হয়তো অনুকূল হবে না।’
এর আগের দিন ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফান্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছিলেন, চীন যদি পারস্য উপসাগরের জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী সচল করতে সাহায্য না করে, তবে তিনি বৈঠকটি স্থগিত করতে পারেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন তথ্য সামনে এলো। তিনি অন্যান্য দেশগুলোকেও এই চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বেইজিং ইরানি জ্বালানি রপ্তানির একটি বড় ক্রেতা এবং তারা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে।
পাশাপাশি, ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল করার পর ওয়াশিংটন চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিনিয়োগ, শুল্ক এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিরা প্যারিসে বৈঠক করেছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া সোমবার চীনা বাণিজ্য প্রতিনিধি লি চেংগাংকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, উভয় পক্ষ কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং আলোচনা চালিয়ে যাবে। লি জানান, মার্কিন প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনের শুল্ক ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে চীনা পক্ষকে অবহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, চীনা আলোচকরা ওয়াশিংটনের বাণিজ্য তদন্তের পরিকল্পনার বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডিএস/ বিআর
