জাতিসংঘে ট্রাম্পের নামমাত্র অর্থ প্রদান, গভীর সংকটে বিশ্বসংস্থা

by Desh Sarakkhon
০ comments

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

জাতিসংঘের প্রায় ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলারের বিশাল বকেয়া পাওনার বিপরীতে মাত্র ১৬ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই নামমাত্র অর্থ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যেখানে বারবার বিদেশি সহায়তা কাটছাঁট করছে এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, সেখানে এই সামান্য অর্থ প্রদান বিশ্বসংস্থার আর্থিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, নিয়মিত বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাওনা প্রায় ২ দশমিক ১৯৬ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চলতি বছরেরই রয়েছে ৭৬ দশমিক ৭ কোটি ডলার। এর বাইরে শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর জন্য বকেয়া রয়েছে আরও ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে জাতিসংঘের মোট বকেয়া অর্থের প্রায় ৯৫ শতাংশই এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাওনা। গত মাসে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন, সদস্য দেশগুলো দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না করলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নিয়মিত কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে যেতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ এবং ‘ফাঁপা কথার জায়গা’ হিসেবে সমালোচনা করে আসছেন। ইতোমধ্যে তিনি ৩১টি জাতিসংঘ কর্মসূচি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন, যার মধ্যে গণতন্ত্র তহবিল এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও রয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী বৈঠকে ট্রাম্পের কণ্ঠে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে। তিনি বলেন, আমরা তাদের (জাতিসংঘ) আর্থিকভাবে সহায়তা করব এবং নিশ্চিত করব যেন তারা টিকে থাকে। তবে এই বকেয়া পাহাড় কবে নাগাদ পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন মূলত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমান্তরাল একটি ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা। ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার এই বোর্ড জাতিসংঘের ওপর নজরদারি করবে এবং এটি সঠিকভাবে চলছে কিনা তা তদারকি করবে।

সমালোচকরা মনে করছেন, একদিকে অর্থ আটকে রাখা এবং অন্যদিকে নিজস্ব তদারকি বোর্ড গঠন করার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত জাতিসংঘের বিশ্বজনীন কর্তৃত্বকে খর্ব করতে চাইছেন।

বিআর/

You may also like

Leave a Comment