আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
জাপানের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। ফলে দলটি দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকের সংগ্রহ করা ফলাফল অনুযায়ী, রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৩১৬টিতে জয় পেয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি। তবে এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি।
ফল প্রকাশের সময় এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের বিষয় ছিল, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতিতে এবং নিরাপত্তা জোরদারের ক্ষেত্রে। এসব নীতির বিরুদ্ধে অনেক বিরোধিতা ছিল। জনগণের সমর্থন পেয়ে থাকলে আমাদের অবশ্যই সর্বশক্তি দিয়ে এসব ইস্যু মোকাবিলা করতে হবে।’
৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি গত বছরের শেষ দিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন এলডিপির নেতৃত্ব পাওয়ার পর নিজের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে এই বিরল শীতকালীন নির্বাচন আহ্বান করেন। তার সোজাসাপ্টা কথা বলা ও পরিশ্রমী ভাবমূর্তি ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। তবে তার জাতীয়তাবাদী অবস্থান ও নিরাপত্তা ইস্যুতে জোর দেওয়ায় চীনের সঙ্গে জাপানের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের ওপর ৮ শতাংশ বিক্রয় কর স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি আর্থিক বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
গতকাল রাতে তাকাইচি বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর্থিক নীতির স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেব। আমরা প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করব। সরকারি ও বেসরকারি খাতকে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে। আমরা একটি শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক অর্থনীতি গড়ে তুলব।’
গত ৩৬ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম জাপানে শীতকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার তুষারঝড়ের মধ্যেই ভোট দেন অনেকে। কোথাও কোথাও রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাতের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কিছু ভোটকেন্দ্র আগেভাগে বন্ধ করতে হয়।
গত বছরের অক্টোবরে এলডিপির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
বিআর/
