তৃনমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: ডা. ফজলে রাব্বি

by Desh Sarakkhon
০ comments

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন, তৃনমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব হলেও সরকারের একার পক্ষে যথাযথভাবে প্রতিপালন করা সম্ভব নয়। এ জন্য বিভিন্ন দাতা ও এনজিও সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিতে হয়। জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে এসডিএফ কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার ( ৩ মার্চ) সকাল ১১টায় নগরীর সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) আয়োজিত আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক কর্মশালায় সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলে রাব্বি বলেন, আমাদের পুষ্টি কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়। আমাদের এসডিজির টার্গেট বাস্তবায়নে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার রোধে পুষ্টি কার্যক্রম আরও বেগবান করতে হবে।
বর্তমান সরকার পুষ্টির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধসহ অপ্রাপ্ত বয়সে যাতে বাচ্চা প্রসব না হয় সে ব্যাপারে সচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। সঠিক পরিমাণ ও সঠিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য খেতে না পারায় অপুষ্টির মূল কারণ। আমরা পুষ্টিহীন কাউকে দেখতে চাই না। খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবতে হবে। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা না গেলে ক্যান্সারসহ জঠিল রোগীর সংখ্য বাড়বে। সুস্থ থাকতে হলে প্রত্যেককে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি ও মনো-সামাজিক বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের সার্বিক গঠন নিশ্চিত করা যাবে।

এসডিএফ’র চট্টগ্রাম জেলা কর্মকর্তা (মনিটরিং) সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের ইনসিটুু উপ-পরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন করেন এসডিএফ’র আঞ্চলিক পরিচালক (কুমিল্লা) এমআইএম জুলফিকার। প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কার্যক্রম বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন এসডিএফ কুমিল্লার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (স্বাস্থ্য ও পুষ্টি) ডা. মুনমুন ঘোষ। কর্মশালায় মতামত ব্যক্ত করেন বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. জাফরিন জাহেদ জিতি ও বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. নাজমা বেগম। শেষে প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে সিজারিয়ান ভাতা বিতরণ করেন কর্মশালার সভাপতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা, এসডিএফ’র কর্মকর্তা ও উপকারভোগীগণ কর্মশালায় অংশ নেন।

এসময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, একটি শিশু জন্মগ্রহণের সাথে সাথে মায়ের বুকের শাল দুধ দিতে হবে। শিশুর জন্মের দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধের পাশাপাািশ পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। পুষ্টির অভাবে একজন শিশু প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ হতে পারে। পুষ্টি নিয়ে সর্বত্র সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। শিশুকে কিভাবে লালন পালন করতে হবে তা সবার আগে জানতে হবে মাকে। একজন প্রশিক্ষিত মা-ই পারে একটি শিশুকে সুন্দর করে লালন পালন করতে। বক্তারা আরও বলেন, পুষ্টিবান জাতি গঠনে আমাদেরকে অনেক কাজ করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে ভোক্তাদের এমনভাবে সমন্বয় ঘটাতে হবে যেন নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্য সবার জন্য সুলভ করা যায়। সকলের সমন্বিত উদ্যোগে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে পুষ্টিবান জাতি গঠন সম্ভব।
বিআর/

You may also like

Leave a Comment