তেজগাঁওয়ের বদলে সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করবেন

by Desh Sarakkhon
০ comments

ঢাকা অফিসঃ

প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বদলে সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে শনিবার তিনি তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সচিবালয়ের নতুন ভবনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা ও বিশেষায়িত একটি কার্যালয় রয়েছে। তবু প্রশাসনিক কাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুবিধা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সচিবালয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনের একটি বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, প্রশাসনে দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও নেওয়া রয়েছে।

এ ছাড়া আবাসিক ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, গণপরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মমুখী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তেজগাঁওয়ে থাকলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের প্রায়ই সেখানে যেতে হয়। রাজধানীর যানজটের কারণে এতে অনেক সময় নষ্ট এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হয়। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভায় সময়মতো উপস্থিত থাকতে হলে অনেক সময় সচিবালয় থেকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে রওনা দিতে হয়, ফলে কর্মঘণ্টার বড় অংশই যাতায়ায় নষ্ট হয়।

এ ছাড়া তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় সেখানে প্রবেশের জন্য কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। আগাম অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। ফলে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সচিবালয়কেই প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সচিবালয় দেশের প্রশাসনের মূল কেন্দ্র হওয়ায় এখানে থেকেই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করলে প্রশাসনের কাজে গতি বাড়বে এবং সময় অপচয় কমবে।’ তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকায় মন্ত্রী থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো অফিসে আসছেন এবং নির্ধারিত সময় শেষে বের হচ্ছেন। এতে সচিবালয়ের কর্মপরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল হয়েছে এবং কাজের গতি বেড়েছে।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। এটি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অধীনে পরিচালিত হয় এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে সহায়তা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকির কাজ এই কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ডিএস/ বিআর

You may also like

Leave a Comment