বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে নারী পুরুষের সমান অংশীদারিত্বের বিকল্প নেই : জেলা প্রশাসক

by Desh Sarakkhon
০ comments

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। নারীরা রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শুরু করে বিমান ও যুদ্ধ বিমানগুলোর চেয়ারেও নারীরা বসেছে। দুর্দান্ত গতিতে নারীরা সর্বত্র নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলছে। মন্ত্রণালয়, সচিবালয় থেকে শুরু করে দেশের সকল দপ্তর সংস্থা এমনকি বেসরকারী পর্যায়েও নারীরা কর্মরত থেকে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। নারীদের অবদান দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তাই নারীদের বাদ দিয়ে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। এ জন্য আগামীতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারী-পুরুষ উভয়কে প্রযুক্তিগত জ্ঞানে দক্ষ হতে হবে।

রোববার (৮ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থা’র যৌথ উদ্যােগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। অনুষ্ঠান সহযোগিতায় ছিলেন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা- প্রত্যাশী, ইপসা, বাপসা ও খান ফাউন্ডেশন।

ডিসি বলেন, আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে আপনি, আমি এবং আমার সন্তানেরা নিরাপদ থাকবে। আমরা অন্য কাউকে দোষারোপ করতে চাই না, প্রত্যেকে নিজেদের পরিবর্তন ঘটাতে পারলে নৃশংসতা ও শিশু ধর্ষণসহ সকল নির্যাতন থেকে রেহাই পাবো। আমাদের মেধাবী সন্তানেরা দেশের বাইরে যাবে-এটা আমরা চাই না, আমরা প্রত্যেকে দেশপ্রেমে জাগ্রত হয়ে নিরাপদ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবো। একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অন্যতম প্রধান শর্ত।

নারী দিবসের সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, নারী মানে কারও করুণার পাত্র নয়। নারীদেরকে শ্রদ্ধা ও সমান চোখে দেখতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে নারীর প্রতি সহিংসতা, নারী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে ও সমতার ভিত্তিতে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে। বক্তারা আরও বলেন, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নারীদের অবদান অনেক বেশি। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামেও নারীদের অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে। নারীরা কখনো পুরুষদের প্রতিদ্বন্দ্বি নয়। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। নারীরা কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে এখন সব পেশায় সর্বক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হচ্ছে। দেশে এমন কোন পেশা নেই যেখানে মেয়েরা কাজ করতে পারবে না।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশী’র সহকারী পরিচালক (ট্রেনিং) মোহাম্মদ সেলিম ও ইলমা’র প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু। চট্টগ্রামে কর্মরত সংশ্লিষ্ট এনজিও এবং নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি সমূহের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ডিএস/বিআর

You may also like

Leave a Comment