‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে স্পষ্টতা চায় জনগণ

by Nafis Shah
০ comments

গণভোটের ফলাফল যা-ই হোক, নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠিত হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে আগামী সংসদের ১৮০ কার্যদিবস ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। এটা কিভাবে করবে সেটা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই দেশের জনগণের।

যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে বলেছে, নির্বাচনের পরপর নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন তারা। কিন্তু গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ সই করে। এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। আদেশের ৭(গ) ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম অধিবেশনের দিন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। এরপর পরিষদ বিলুপ্ত হবে।

ভোটের কতদিন পর সরকার

১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদের নির্বাচন হয়। ২১ জুন নতুন সরকার গঠিত হয়।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন হয়। নতুন সরকার গঠিত হয় ১০ অক্টোবর।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। এক সপ্তাহ পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠিত হয়। পরবর্তী তিনটি নির্বাচনেও ভোটের পর এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর শপথের মাধ্যমে বিদায় নেয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

সরকার গঠনে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় লেগেছিল ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে। সেবার ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের ২১ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কারণ, ওই সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ১৪৩ আসন পাওয়া বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর ১৮ এমপির সমর্থনে সরকার গঠন করেছিল।

কেন ১৮০ কার্যদিবসের পরিষদ

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরিষদের ক্ষেত্রেও একই বাধ্যবাধকতা রাখা রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে। এমপিরা সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। পরিষদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের আদলে সভাপ্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হবেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার সমকালকে বলেন, সংসদ যেভাবে চলে, পরিষদও একইভাবে চলবে। সংসদ সরকার গঠন, বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক, আইন ও বাজেট প্রণয়নের নিয়মিত কাজ করবে। পরিষদ শুধু সংবিধান সংস্কারের কাজ করবে। এর সঙ্গে সরকার গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে সংসদ নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠিত হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশ উত্থাপন ও পাস না হলে বাতিল হয়ে যাবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হলেও এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে আগামী সংসদের ওপর। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েও অধ্যাদেশ পাস না হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে কিনা, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে জুলাই সনদে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। যদিও বিএনপি, জামায়াতসহ স্বাক্ষরকারী সব দলই বলছে, সনদ মেনে চলবে তারা। এনসিপি এখনও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি।

জুলাই সনদ প্রণয়ন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আলী রীয়াজ সমকালকে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপর নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন। এর পরই নতুন সরকার গঠিত হবে।

You may also like

Leave a Comment