সিলেট প্রতিনিধিঃ
সিলেটের একাধিক স্থানে কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
দলটির দাবি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নগরী ও সদর উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তার ও সশস্ত্র মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার মিতা কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা এমন অভিযোগ করেন।
সংবাদ সমেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সব সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সম্মেলনে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে উদ্দেশ্যমূলক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণায় শিশু কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকাশ্য জনসভায় ধর্মকে ব্যবহার করে বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নগরী ও সদর উপজেলার একাধিক কেন্দ্রে নিজেদের পক্ষে ফল নিশ্চিত করতে কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিএনপি জানতে পেরেছে। যেসব কেন্দ্রে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তার ও সশস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হতে পারে, সেসব কেন্দ্রের তালিকা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে কয়েস লোদী বলেন, নগরী ও সদর উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির তথ্য আমরা পেয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে প্রশাসনকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং এসব কেন্দ্রে ভোটের আগে ও পরে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরা আরও অভিযোগ পাচ্ছি যে, আমাদের প্রতিপক্ষ প্রার্থী প্রকাশ্যে অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণের প্রমাণসহ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত তিনটিতে বহিরাগতদের অস্বাভাবিক আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্বাচনি পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এ ছাড়া অবৈধ ব্যালট পেপার, সিল ও কালি উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ বিষয়ে শুক্রবার সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে। বিশেষভাবে আমরা উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় ও সংরক্ষিত ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা প্রদর্শন ও বিতরণ করছে। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, এই তালিকা কেবল নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। কোনো প্রার্থী বা সমর্থকের এটি সংগ্রহ, সংরক্ষণ কিংবা বিতরণের কোনো আইনগত অধিকার নেই। এই অবৈধ কর্মকাণ্ড ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে, ভোটারদের মনে অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমরা অবিলম্বে এই বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কিন্তু এভাবে আচরণবিধির নগ্ন লঙ্ঘন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পঙ্খি ও বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন ও মাহবুব কাদির শাহি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু ও আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা।
বিআর/
