চমেক হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মানবিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : মেয়র

by Desh Sarakkhon
০ comments

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমরা একটি শুদ্ধি অভিযানে নেমেছি। যেন হাসপাতালে রোগী হয়রানি এবং অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারি। রোগীরা যেন নিরাপদে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অভ্যন্তরে সক্রিয় দালালচক্র ও রোগী ভাগিয়ে নেওয়া সিন্ডিকেট এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার ( ১০ জুন ) সকালে চমেক হাসপাতালে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। কার্যক্রম উদ্বোধনকালে হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মেয়র।

 

এসময় ডা. শাহাদাত আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মানবিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। দীর্ঘদিনের অরাজকতা ও অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে জনগণের জন্য একটি সেবাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে রোগীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ধরনের অনিয়ম আর চলতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণাও দেন মেয়র। তিনি বলেন, ওয়ালি বেগ খাঁ মসজিদ থেকে মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত পুরো ফুটপাতকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পথচারী জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে কোনো ধরনের ভাসমান ব্যবসা, ফল বা ডাব বিক্রি এবং ট্রলি ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। এলাকাটি সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় এনে সবুজায়ন ও গ্রাফিতির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মেয়র হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন দোকান পরিদর্শন করে প্রতিটি দোকানে ডাস্টবিন সংরক্ষণ এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নালা নর্দমায় মশার লার্ভা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়।

 

এসময় হাসপাতাল চত্বরকে ধূমপানমুক্ত ও মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে স্থায়ী রূপ দিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১০ জন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ১০ জনসহ মোট ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান মেয়র। হাসপাতালের পানি সংকট নিরসনে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠান। এখানকার রোগীরা যেন সম্মানজনক ও মানসম্মত সেবা পায়, সে জন্য হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি বলে জানান মেয়র। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চসিক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

You may also like

Leave a Comment