আন্তর্জাতিক ডেক্স:
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) ২০২৫ সালে প্রাণঘাতী জেন জি বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে নেপাল পুলিশ ভক্তপুরের গুন্ডুতে তার বাসভবন থেকে ওলিকে হেফাজতে নেয়।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহের শপথ গ্রহণের একদিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
অলির গ্রেপ্তারের কয়েক মিনিট পর নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি মানে প্রতিশ্রুতি’ এবং ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’
তিনি এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এটা কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়; এটা ন্যায়বিচারের সূচনা মাত্র। আমি বিশ্বাস করি, এখন দেশ একটি নতুন পথে এগিয়ে যাবে।’
তবে অলি গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাঁকে ‘প্রতিহিংসামূলকভাবে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ‘আমি আইনি লড়াইটা লড়ব’।
গত বছর ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের দুর্নীতিবিরোধী যুব অভ্যুত্থানে অন্তত ১৯ জন তরুণসহ ৭০ জনেরও বেশি নিহত হন। এই অভ্যুত্থানটি একটি সংক্ষিপ্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও, এটি অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে উসকে দিয়েছিল। পরের দিন সংসদ ও সরকারি দপ্তরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এই অস্থিরতা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে কেপি ওলি সরকারের পতন ঘটে।
বালেন্দ্র শাহ নির্বাচিত হওয়ার আগে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অল্প সময়ের জন্য নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বলেন্দ্র শাহ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নেপালের সংসদীয় নির্বাচনে জয়লাভ করার পরপরই , দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন সহিংসতার তদন্তের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়।
শুক্রবার বলেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে নেপালের নবগঠিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে উচ্চ-পর্যায়ের কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনটি অবিলম্বে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেদনটিতে উচ্চ পদে থাকা সত্ত্বেও অভ্যুত্থান চলাকালীন অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের, যার মধ্যে অলি এবং লেখকও রয়েছেন, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছিল।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ‘গুলি চালানোর কোনো আদেশ ছিল বলে প্রমাণিত হয়নি’, তবে ‘গুলি চালানো বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো চেষ্টা করা হয়নি এবং তাদের অবহেলামূলক আচরণের কারণে কিশোররাও প্রাণ হারিয়েছে।’
তদন্ত কমিশন তৎকালীন নেপাল পুলিশের মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুং-সহ আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। সূত্র: এনডিটিভি
ডিএস/ বিআর
