আন্তর্জাতিক ডেক্স
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক বছর দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল, কৌশলগত ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত তাদের প্রথম দফার বৈঠক শেষে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এ বৈঠকে মূল গুরুত্ব পায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট। যদিও চীনের সরকারি বিবৃতিতে ইরান প্রসঙ্গ সীমিতভাবে উঠে আসে, হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা হয়, সে বিষয়ে দুই পক্ষ একই অবস্থানে রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং ও ট্রাম্প এমন একটি নতুন কাঠামো তৈরিতে সম্মত হয়েছেন, যা আগামী তিন বছর এবং তার পরবর্তী সময়েও দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনায় দিকনির্দেশনা দেবে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে পারস্পরিক লাভজনক বলে উল্লেখ করেন শি। তিনি বলেন, বিদেশি বিশেষ করে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করা হবে।
একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ জোরদার, বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তবে তাইওয়ান প্রসঙ্গে তিনি কঠোর অবস্থান তুলে ধরে সতর্ক করেন, এ ইস্যুতে ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে বেইজিং।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কয়েকটি কোম্পানির নির্বাহীরাও আলোচনায় অংশ নেন। সেখানে মার্কিন ব্যবসার জন্য চীনের বাজারে আরও সুযোগ সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অবৈধ প্রবাহ বন্ধের বিষয়েও দুই নেতা গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানানো হয়।
হোয়াইট হাউজ আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালি সচল রাখা জরুরি এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি জ্বালানি আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন শি জিনপিং।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক চলে প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট, যা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প এক কথায় আলোচনা “চমৎকার” হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিং বলেন, স্থিতিশীল চীন-মার্কিন সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিযোগিতার বদলে অংশীদারত্বই হওয়া উচিত দুই শক্তিধর দেশের ভবিষ্যৎ পথ।
ট্রাম্পও বৈঠকে শির সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, অতীতে দুই দেশের মধ্যে কোনো জটিলতা তৈরি হলে তারা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করেছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।
ডিএস/ বিআর
