নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। এদিন ১৭টি স্থায়ী কেন্দ্র আর ১৪ হাজার ৪’শ অস্থায়ী কেন্দ্র মিলে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ৯৬ হাজার ৭৯ জন ও লাল রঙের ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭’শ ৯০জন সর্বমোট ৮ লক্ষ ৪২ হাজার ৮’শ ৬৯ জনকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন বলেন, ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলাব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় স্থায়ী অস্থায়ী মিলে মোট ১৪ হাজার ৪’শ ১৭টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া আরও মোবাইল কেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতিমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোয় গিয়ে তাঁদের সন্তানদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন। সিভিল সার্জন আরও জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (নিজেদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সিভিল সার্জন আরও জানান, চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে প্রতিটি সাব-ব্লকে প্রতিদিন ২টি দল কাজ করবে। প্রতিদিন ২টি সাব-ব্লকে মোট ৪ টি দল কাজ করবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ সম্পূর্ণ হবে ৪ দিনে। প্রতি দলে দুইজন মাঠকর্মী থাকবেন একজন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবেন এবং অন্যজন টালি দিবেন। প্রতিটি দল ৬-৫৯ মাস বয়সী যে সকল শিশু ক্যাম্পেইনের দিন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খায়নি তাদের প্রত্যেককে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবেন। প্রতিটি দলে কমপক্ষে ২০টি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল থাকবে। অর্থাৎ প্রতিটি সাব-ব্লকের জন্য ৪০টি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিতে হবে। মাঠকর্মীগণ সকাল ৮:০০ টার মধ্যে কেন্দ্র থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টালি ফর্ম সংগ্রহ করবেন এবং সেই দিনের জন্য নির্ধারিত সাব-ব্লকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবেন । কাজের সুবিধার জন্য প্রতি সাব-ব্লককে দুই ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগে ১টি দল কাজ করবে। তাঁরা পূর্বে প্রস্তুত করা ওয়ার্ড ম্যাপ অনুসরণ করে আলাদাভাবে বাদপড়া শিশুদের খুঁজে বের করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবেন। প্রতিটি দল দূরের এলাকা থেকে কাজ শুরু করে সাব-ব্লকের কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হবে বলে জানান ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পেইনের দিন পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে কাছের কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জানাম জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন এ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না; বরং তা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয় এবং হাম প্রতিরোধ ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগপ্রতিরোধ কার্যক্রম নামে পরিচিত ছিল। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিব্বীর আহমেদ প্রিন্স ( এম ও সিএস) ও তৌহিদুল আনোয়ার ( ডেপুটি সিভিল সার্জন) সহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
