ডেভিড ইমনের পরে রায়হানও নজরদারিতে আছে: এসপি মাসুদ

by Desh Sarakkhon
০ comments

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে পুরো গ্যাংয়ের লিডার বলা যায় মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে। গ্রুপের প্রধান সাজ্জাদ দেশের বাইরে রয়েছে। গ্রুপে ডেভিড ইমনের পরে রায়হান এখনও আমাদের নজরদারিতে আছে। পুলিশের কাছে কে কার প্রতিপক্ষ বা কোন গ্রুপের সদস্য-সেটি বিবেচ্য নয়। আমাদের কাছে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, সে অপরাধী কি না। সে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৩টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে আনার পর বৃহস্পতিবার ( ৩০ জুলাই ) জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন গ্যাংয়ের মূল নেতৃত্বে রয়েছে বড় সাজ্জাদ। তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতো ডেভিড ইমন। গ্রেপ্তার এড়াতে চেহারা পরিবর্তন করেছিল ডেভিড ইমন। এছাড়া গ্যাংটির আরেক সদস্য রায়হান দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য তুলে ধরেন এসপি মাসুদ আলম বলেন, পুলিশের সিডিএমএস তথ্য অনুযায়ী ইমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যা মামলা এবং বাকি মামলাগুলো চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। পুরাতন ফটিকছড়ি থানার মামলায় রিমান্ড আবেদন করা হবে। যশোরে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এসপি বলেন, পুলিশের কাছে আগে থেকেই কিছু গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য আলামত ছিল। সেগুলোর ভিত্তিতেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিজের চেহারা পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চুল-দাড়ির স্টাইলও পরিবর্তন করেন। এটি কোনো আকস্মিক অভিযান নয়। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই সফল অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।

রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামে যোগদানের পর দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে-জঙ্গল সলিমপুর এবং রাউজান। শুরু থেকেই রাউজানকে ঘিরে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অভিযান অব্যাহত থাকবে। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাসীদের উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তদন্তে কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সৃষ্ট সাময়িক শূন্যতার সুযোগ অপরাধীরা নিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বায়েজিদ থানার একটি দস্যুতার মামলায় কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল ডেভিড ইমন। গ্রেপ্তারের ২২ দিনের মাথায় সে জামিনে মুক্তি পায়।
ডিএস/ বিআর

You may also like

Leave a Comment