ডেক্স রিপোর্ট :
বাঙালি সশস্ত্র বিপ্লববাদী, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক পূর্ণেন্দু দস্তিদার এর প্রয়ান দিবস আজ।
পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামের ঐতিহাসিক দস্তিদার পরিবারে তার জন্ম হয়েছিল।
পটিয়ার বিখ্যাত এ রাজনৈতিক পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন- শহীদ বিপ্লবী অর্ধেন্দু দস্তিদার, প্রখ্যাত পিকিংপন্থি দুই কমিউনিস্ট নেতা সুখেন্দু দস্তিদার ও শরদিন্দু দস্তিদার, কবি ত্রিদিব দস্তিদার প্রমুখ।
পূর্ণেন্দু দস্তিদার চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯২৭ সালে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করে যাদবপুরে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় তিনি বিপিএসএর নেতৃস্থানীয় কর্মী হয়েছিলেন এবং চট্টগ্রামজুড়ে চলা স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহে যোগ দেন বিপ্লবী পূর্ণেন্দু। ১৮ এপ্রিল, ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানে সক্রিয় অংশ নেন এবং ধরা পড়ে দীর্ঘকাল কারান্তরালে থাকতে হয় তাকে। মুক্তি পেয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংসদীয় রাজনীতিতে অংশ নেন ও পূর্ববঙ্গ বিধানসভার সদস্য হন। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি হলে তাকে আবার জেলে যেতে হয়। মুক্তি পেলেও তাকে অন্তরীণ অবস্থায় রাখে আইয়ুব খান শাসিত সরকার।
স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম, কবিয়াল রমেশ শীল, বীরকন্যা প্রীতিলতা ইত্যাদি তার রচিত গ্রন্থ। এ ছাড়া অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শেখভের গল্প’ ও ‘মোপাসাঁর গল্প’। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্যে ভারত অভিমুখে রওনা দেন পূর্ণেন্দু।
৯ মে, ১৯৭১ সালে পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
ডিএস/ বিআর
