চট্টগ্রাম কাস্টমস্ এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার ( ১১ মে ) নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ শফিউল আজম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সদস্য মোঃ আবদুল সাত্তার।
সভায় এসোসিয়েশনের প্রয়াত সদস্যবৃন্দ, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং জুলাই’২৪ গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ উবায়দুল হক আলমগীর।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম সাইফুল আলম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক সংগঠনের ন্যায় এ এসোসিয়েশনেও প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রশাসনকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি, এসোসিয়েশনে প্রশাসক নিয়োগ হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, অন-চ্যাসিস ডেলিভারির আন্ডারটেকিং স্বাক্ষরসহ সিএন্ডএফ এজেন্টদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
তিনি বলেন, ২৮০০ সিএন্ডএফ এজেন্টের জীবিকা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে চাইলে তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি এসোসিয়েশনের প্রতিটি কর্মকান্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, বর্তমান পরিষদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সদস্যদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ এবং নির্বিঘ্নে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিশ্চিতকরণে বিদ্যমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সদস্যদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে দুইটি শক্তিশালী ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। শিপিং এজেন্টদের অযাচিত চার্জ আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জবাবদিহিতামূলক মাসিক প্রশ্নোত্তর পর্ব পুনরায় চালু করা হয়েছে।
পরে এসোসিয়েশনের সভাপতিকে আহবায়ক করে সার্ভিস প্রোভাইডার কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করা হয়। তিনি সকল বিভাজন ভুলে সিএন্ডএফ ব্যবসা সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস্ সিএন্ডএফ এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, নতুন লাইসেন্স ইস্যুতে আমাদের আপত্তি নেই, তবে কাস্টমস হাউসসমূহের বাৎসরিক আমদানি-রপ্তানি পরিসংখ্যান বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইসেন্স ইস্যু করা উচিত। তিনি জানান, প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইসেন্স ইস্যু স্থগিতের দাবিতে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে লিখিত পত্র প্রদান করা হয়েছে। আমরা সিএন্ডএফ কমিশনের উপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা বিষয়ে এনবিআরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি এবং এনবিআর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বেনাপোল সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি
শামছুর রহমান, ১ম সহ-সভাপতি মোঃ নুরুল আবছার, ২য় সহ-সভাপতি মোঃ সাইফুদ্দিন, ৩য় সহ-সভাপতি আবু সালেহ, উপদেষ্টা মোঃ সোলায়মান, মোঃ নুরুল ইসলাম ও মোঃ নুরুল আবছার, ঢাকা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মোঃ মোখলেছুর রহমান, নির্বাচন কমিশনার মোঃ হানিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, সাবেক অর্থ সম্পাদক মোঃ সায়েদুজ্জামান খান, সদস্য খন্দকার লতিফুর রহমান আজিম, আবদুল হাই মাসুম, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এম এ আজিজ হাওলাদার, এএসএম ইসমাইল খান, মোঃ এনামুল কবির বাচ্চু, এস এম খায়রুল আমান, এস এম মহিউদ্দিন, সৈয়দ মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইসেন্স ইস্যু বন্ধ, ছোট শুল্ক স্টেশন থেকে লাইসেন্স নিয়ে কাস্টমস হাউসে অধিক্ষেত্র সংযোজনের সুযোগ রহিতকরণ, রপ্তানি চালান শাটআউট হওয়ার পর শিপিং বিল বাতিলের প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আমদানিকারকের অসত্য ঘোষণার দায় সিএন্ডএফ এজেন্টের উপর চাপিয়ে না দেওয়া, ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে নিলাম কাটাতে জরিমানার বিধান প্রত্যাহার, বন্দরের চারগুণ হারে স্টোররেন্ট আদায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, বর্ধিত সিএন্ডএফ তালিকাভুক্তি ফি হ্রাস, টেন্ডার নীতিমালা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বন্দরের নির্ধারিত স্কেল ব্যতীত অন্যকোন স্কেলে পণ্যের ওজন নির্ণয় বন্ধ করা, পণ্য ঘোষণার পূর্বে সঠিক এইচএস কোড নির্ধারণে কাস্টমস কর্তৃক বিশেষ শাখা গঠন, সিএন্ডএফ কমিশনের হার তিন ক্যাটাগরিতে নির্ধারণ করা, একবার রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষা না করা, ২য় প্রকল্পে মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের পূর্বে সম্ভাব্যতা যাচাই ও Return of Investment নিশ্চিতকরণ এবং সিএন্ডএফ কমিশন বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আদায়সহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
অর্থ সম্পাদক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী কর্তৃক ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন, অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষা কমিটির মেয়াদ এক বছর থেকে বৃদ্ধি করে তিন বছর নির্ধারণ, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন, ২০২৬ সালের হিসাব নিরীক্ষার জন্য বর্তমান অডিটরকে পুনঃনিয়োগ এবং যুগ্ম অর্থ সম্পাদক, অফ-ডক বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক নামে নতুন পদ সৃজনসহ গঠনতন্ত্র অধিকতর সংশোধন করে যুগোপযোগী করা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় উপদেষ্টা পরিষদ, সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, ফেডারেশনসহ বিভিন্ন এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ডিএস/ বিআর
