পোশাক কারখানায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, যানজট ও ভোগান্তি

by Desh Sarakkhon
০ comments

কে এম রাজীব:

নগরীর চান্দগাঁওয়ের মোহরা এলাকায় অবস্থিত আজিম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের মজুরি ( ওভারটাইম) ও বকেয়া বেতন না দেওয়ায় মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার ( ২ মে) বেলা ১১টার দিকে নগরীর সিএন্ডবি চত্বরে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এসময় সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন, অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পাওনার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। শনিবার সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর শ্রমিকরা আবারও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। মালিকপক্ষ দাবির বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দেওয়ায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সাধারণ শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন এবং উৎপাদন বন্ধ করে দেন বলে জানান পালিক পক্ষ। এসময় তারা বাইরে এসে বিক্ষোভ করলে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। অন্যদিকে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। ২০২০ সাল থেকে তাদের টিফিন বিল বকেয়া রয়েছে, ২০২২ ও ২০২৫ সালের ওভারটাইমের পাওনা দেওয়া হয়নি এবং নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়নি। তারা ওভারডিউটি কমানো, প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পরিশোধ, শ্রমিকবান্ধব ইউনিয়ন গঠন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, টিফিন বিল বৃদ্ধি ও হাজিরা বোনাস চালুর দাবি জানান।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি, মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে তারা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ওভারটাইম করলেও তাদের ন্যায্য পাওনা পাচ্ছেন না। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ওভার টাইমের টাকা পরিশোধে কর্তৃপক্ষ গড়িমাসি করছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ন্যায্য পাওনা চাইতে গেলে উল্টো তাদের চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হয়। শ্রমিকরা বলেন, আমাদের বেতন না দিয়ে কাজ করাতে চান কর্তৃপক্ষ। আমরা বেতন দাবি করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ফলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে, কারখানার গ্লাস ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসময় শ্রমিকরা আরও জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বেতন এখনো পাননি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন সম্পূর্ণ দেওয়ার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার কেবল এক মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর তাদের মাতৃত্বকালীন বিল বকেয়া রাখা হচ্ছে। শুধু আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো সমাধান মিলছে না। এতে তারা ঘরভাড়া পর্যন্ত দিতে পারছেন না। ২০২২ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ওভারটাইমের প্রায় ৪৫ হাজার টাকা সিগনেচার জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। খাতায় তাদের নামও নেই। এছাড়া গত পাঁচ বছর ধরে নাস্তার বিলও পরিশোধ করা হয়নি। তবে শ্রমিকদের দাবি আদায়ে এখনো পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ ও চান্দগাঁও থানা পুলিশ জানান, মোহরায় অবস্থিত আজিম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মূলত অতিরিক্ত কাজের মজুরি বা ওভারটাইম (ওটি) ভাতা নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুপুর ১টার দিকে নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য বৈঠকে বসা হয়েছে, সমাধানে এসে কারখানা চালু করার চেষ্টা করছি আমরা।
ডিএস/ বিআর

You may also like

Leave a Comment