নগরীতে অস্ত্র ও সন্ত্রাসীসহ গ্রেপ্তার ৩

by Desh Sarakkhon
০ comments

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডবলমুরিং ও বায়েজিদ থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ সময় জুলাই আন্দোলনে লুণ্ঠিত দুটি বিদেশি পিস্তলসহ মোট তিনটি পিস্তল, গুলি ও ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এই উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিএমপির কমিশনার হাসান মো: শওকত আলী।

এ বিষয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) নগরের দামপাড়াস্থ সিএমপি’র সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিং করেন সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

প্রেস ব্রিফিং এ সিএমপি’র উর্ধবতন কর্মকর্তা, ডবলমুরিং ও বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৫ জুলাই শনিবার ডবলমুরিং মডেল থানার একাধিক চৌকস আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝর্ণাপাড়া রেলবিট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদক কারবারী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ আলমগীর (৩০) কে গ্রেপ্তার করে। অভিযান পরিচালনাকালে বর্ণিত ঘটনাস্থল হতে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং মডেল থানা ভাংচুরকালে ডবলমুরিং মডেল থানা হতে লুণ্ঠিত ম্যাগাজিনযুক্ত দুটি ৯এমএম পিস্তল এবং ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসী মোঃ আলমগীর নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার পাঠানঘর জুয়েল সিকদার বাড়ি এলাকার শামীম ওসমানের বাড়ি সংলগ্ন আবদুল বাতেন ও রেনু বেগম প্রকাশ মনোয়ারা বেগমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, মাদক উদ্ধার অভিযানকালে সন্ত্রাসী মোঃ আলমগীররের অনুসারীগণ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং তার অনুসারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করলে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা শর্টগানের ২৭ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ফায়ার করে। উক্ত সময়ে হামলাকারীদের নিক্ষেপ করা গুলি ও ইট পাটকেল এর আঘাতে ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ মোবিনুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতরভাবে আহত হয়। গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসী মোঃ আলমগীরের বিরুদ্ধে ১২টি মাদক, ৩টি বিস্ফোরকদব্য আইন এবং ১২টি অন্যান্য মামলাসহ মোট ২৭টি মামলার রয়েছে। এদিকে সিএমপি’র বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম ২৬ জুলাই রোববার রাতে থানা এলাকায় নিয়মিত অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ চিহিৃত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের অন্যতম সহযোগী মোঃ আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম প্রঃ আরিফ (২৪)কে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসিফ বায়েজিদ থানাধীন ট্যানারী বটতল, হাশেমশাহ মাদ্রাসা রোড, বড় হুজুরের বাড়ির মোঃ ইউসুফের পুত্র ও সন্ত্রাসী আরিফ হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকার শাহাজী বাড়ি (১নং পাহাড়তলী) মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেফতারকৃতদের দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে আসামী মোঃ আসিফের পরিহিত প্যান্টের পেছনের কোমর থেকে একটি কালো প্লাস্টকের গ্রীপযুক্ত বিদেশী পিস্তল, যার ট্রিগার সচল, কালো গ্রীপের একপাশে ভাঙ্গা এবং উভয় পাশে ডলফিনের লোগো রয়েছে। এছাড়া পিস্তলের ম্যাগাজিনে লোড অবস্থায় ২ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। আসামী সাইদুল ইসলাম প্রকাশ আরিফের দেহ তল্লাশীকালে তার প্যান্টের সামনের বাম পকেটে ছোট পত্রিকার কাগজে মোড়ানো অবস্থায় আরও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামীদ্বয়ের হেফাজত হতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি বহনের বৈধ কোনো লাইসেন্স বা কাগজপত্র আসামিরা পুলিশকে দেখাতে পারেনি। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তারা চট্টগ্রােেমর আলোচিত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডেভিট ইমনের অন্যতম সহযোগী এবং অবৈধভাবে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহারের কথা স্বীকার করে। আসামী মোঃ আসিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুুতি, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা, অস্ত্র আইন, সরকারী কর্মচারীদের আঘাত ও হত্যার চেষ্টাসহ মোট ১১টি মামলা এবং আসামী সাইদুল ইসলাম প্রকাশ আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে।
ডিএস/ বিআর

You may also like

Leave a Comment