নিজস্ব প্রতিবেদক:
নগরের সদরঘাট এলাকায় শিশু ধর্ষণ মামলার রায়ে মো.আকতার সর্দার (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার ( ২৬ জুলাই ) চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নগরের সদরঘাট থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ী সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। শিশুর পিতা একটি জুতার কারখানায় এবং মা একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে শিশুটি নগরের পূর্ব মাদারবাড়ীর সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। অভিযুক্ত মো.আকতার সর্দার প্রতিবেশী হওয়ায় প্রায়ই বাসায় যাতায়াত করতো এবং শিশুটিকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতো। ২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে গেলে বিকেল দিকে বাসায় একা থাকা শিশুটির কাছে যায় অভিযুক্ত।
এ সময় সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনার পর ভয়ভীতির কারণে শিশুটি কাউকে কিছু জানায়নি। পরে ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। শিশুটি তখন মাকে জানায়, কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসায় ঢুকে তাকে মারধর করে এবং কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরীক্ষা করে শারীরিক আঘাতের আলামত দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুর বাবা মনির হোসেন সদরঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়। রায়ের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো.আকতার সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডিএস/ বিআর
