সাত গোলের মহড়া, বিশ্বকাপে বার্তা দিল জার্মানি

by Desh Sarakkhon
০ comments

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

সেভেন আপ শব্দটি শুনলেই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সমর্থকদের মনে ভেসে ওঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ রাত। নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী পরাজয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হয়ে আছে আজও।

বারো বছর পর সেই জার্মানিই যেন আবার ফিরিয়ে আনল পুরোনো স্মৃতি। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্কোরলাইনটা দেখেই অনেকের মনে জেগে উঠেছে বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামের সেই ভয়াবহ রাতের স্মৃতি।

ক্যারিবিয়ান সাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের বিপক্ষে শুরু থেকেই ছিল জার্মানদের একচ্ছত্র আধিপত্য। আক্রমণের পর আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে গোল উৎসব করেছে তারা। শেষ পর্যন্ত ৭-১ ব্যবধানের বড় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে জার্মানরা।

২০১৪ সালের সেই ম্যাচটি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এখনও এক গভীর ক্ষত। অনেকের মতে, ১৯৫০ বিশ্বকাপের ‘মারাকানাজো’র পর এটিই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়। সে কারণেই ৭-১ স্কোরলাইনটি আজও ব্রাজিলিয়ানদের জন্য আবেগ, হতাশা ও আক্ষেপের প্রতীক।

সেই সময় ব্রাজিলের কোচ ছিলেন লুইস ফেলিপে স্কলারি। ২০০২ সালে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো এই কিংবদন্তি কোচের কাঁধে ছিল স্বাগতিকদের স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব। দলকে সেমিফাইনালে তুললেও জার্মানির বিপক্ষে সেই বিপর্যয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে আছে।

আজ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির ৭-১ গোলের জয় তাই শুধু তিন পয়েন্টের গল্প নয়; এটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে আবারও ফিরিয়ে এনেছে ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের স্মৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেটিজেনরা ‘সেভেন আপ’ প্রসঙ্গ টেনে নানা রসিকতা ও আলোচনায় মেতে উঠেছেন।

তবে ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা। ভবিষ্যতে এই বিশ্বকাপে জার্মানি ও ব্রাজিলের দেখা হলে আবারও এমন কোনো স্কোরলাইন দেখা যাবে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ ফুটবলের সবচেয়ে বড় নাটকগুলো কখনোই আগাম ঘোষণা দিয়ে আসে না।

You may also like

Leave a Comment